তেত্রিশ দিনের প্রেম! : ইলোরা কামরুন

56

 

জীবনের প্রথম প্রেমপত্রখানা পাইয়া রীতিমত ভড়কাইয়া গিয়াছিলাম। পুরো চিঠিজুড়েই প্রেম ভালোবাসাপূর্ণ নানান কাব্যিক অভিব্যক্তি। একেবারে শেষে প্রেরক লাল রঙের কালিতে গোটাগোটা হরফে লিখিয়াছিলেন, “এই পৃথিবী যতদিন থাকিবে, তোমায় আমি ৩৩ দিন ভালোবাসিবো”। সেই পত্র পাঠ মাত্র আমি স্থির হইয়া দাঁড়াইয়া রহিলাম। ছেলেটির প্রতি আমারও এক ধরণের প্রবল ভালো লাগা-ই ছিলো। কিন্তু, এই জীবনে সে আমাকে কেবল ৩৩ দিন ভালোবাসিবে জানিয়া দুঃখের আর সীমা রহিল না। সেই সীমাহীন দুঃখেই আমি তাহাকে নাকচ করিয়া দিলাম। কিন্তু, বুকের ভেতর কী এক প্রবল বিরহ-ব্যথায় আবিষ্ট হইয়া রহিলাম জনম’ভর। বহু বহু বছর বাদে তাহার সহিত আমার হঠাৎ দেখা হইলো এক রেস্তোঁরায়, ইতিমধ্যে তাহার বিবাহ ও সন্তান হইয়াছে, কিন্তু আমার প্রতি তাহার সেই মুগ্ধতার নাকি এতটুকুনও ঘাটতি হয় নাই। সে আমাকে দেখিয়া কাতর কন্ঠে কহিল, “আপনার কি মনে আছে? কিশোরীবেলার সেই প্রবল ভালোবাসাকে আপনি কি নির্দয়ভাবেই না প্রত্যাঘাত করিয়াছিলেন? ভালোবাসাপূর্ণ সেই হৃদয়খানা কতোখানি কষ্ট পেয়েছিলো জানেন?” আমি বলিলাম, “সে কি ভালোবাসা? যে বলে, এই জীবনে আমি তোমাকে মাত্র তেত্রিশ দিন ভালোবাসিবো, সে কি রকম ভালোবাসা?” আমার কথা শুনিয়া তাহার মুর্চ্ছা যাইবার উপক্রম হইলো; কহিলো, “সে কি কথা? আমি তো তেত্রিশ দিন লিখি নাই। আমি লিখিয়াছিলাম ততদিন। সম্ভবতঃ বেখেয়ালে বা অতিরিক্ত উত্তেজনায় তত-এর উপরে মাত্রা টানিতে ভুলিয়া গিয়াছিলাম। ফলে তত হইয়া গিয়াছিলো ৩৩!” আমি বিস্ফারিত নেত্রে তাহার দিকে তাকাইয়া অশ্রু সম্বরণ করিতে করিতে ভাবিলাম, “আহা, মাত্রা কি ভয়ানক! দুটি জীবনের একটি সফল প্রেমের গল্পে কিরূপ ভয়ানক সমাপ্তির মাত্রা টানিয়া দিয়াছে!”