হেমলক পান ও হাসিনার পতন: ব্যারিস্টার আবু সায়েম

244

 

বিষয় তাহলে কী দাঁড়াচ্ছে? আমরা দোলোয়ার-সাইফুর, শামীম-সম্রাট, পাপিয়া-সাবরিনাদের পেছনে ছুটবো, নাকি গোড়ায় আঘাত করবো? সিদ্ধান্ত আপনার, তবে আমার একটু কথা আছে।

দেশটা যেমন আমার, তেমনি আপনারও। তাহলে বিএনপির ঘাড়ে দেশ উদ্ধারের দায়িত্ব দিয়ে চুপচাপ বসে আছেন কেন? নিজে মাঠে নামুন, আওয়াজ তুলুন—লেন্দুপদের বিরুদ্ধে, যারা দেশকে ধর্ষণ করছে দিনরাত, লুটে নিচ্ছে আপনার-আমার সব ধন। ভোট দিতে পারেননি, অথচ বিনা ভোটের প্রধানমন্ত্রীকে সারাক্ষণ ‘মাননীয়’ ‘মাননীয়’ তোয়াজ করে চলেছেন, কী মুশকিল! বলছেন, আইন না মেনে উপায় কী?

সক্রেটিসকে কিন্তু আইন দেখিয়েই হেমলক পান করানো হয়েছিলো। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিলো, তিনি নিজস্ব মতবাদে দীক্ষা দিয়ে যুবকদের বিপথগামী করছেন। অ্যাথেনিয়ান জুরিসপ্রুডেন্সে সেটি ছিলো সর্বোচ্চ অপরাধ, যার একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদন্ড। মজার বিষয়, একজন বিচারক ও ৫০১ সদস্যের জুরি প্যানেল যখন সক্রেটিসের বিচার করছিলো, তখন তিনি একটিবারের জন্যও দাবি করেননি, যুবসমাজকে বিপথগামী করাটা মৃত্যুদন্ডযোগ্য অপরাধ নয়। বরং তার মূল যুক্তি ছিলো, তার শিক্ষায় যুবসমাজ বিপথগামী হতে পারে না। সক্রেটিস কিন্তু জানতেন, আইন নয়, প্রতিক্রিয়াশীলরাই তাকে চক্রান্ত করে অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। তবে রাষ্ট্রীয় আইনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে তিনি কয়েদখানা থেকে পালানোর চেষ্টা করেননি। সে যা-ই হোক, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সক্রেটিস কিন্তু তার মতবাদ প্রচার করে গিয়েছিলেন, যেহেতু তিনি বিশ্বাস করতেন—তিনি কোন অপরাধ করছেন না। আমার বক্তব্য সেখানেই। আইন মানা ও আইন ভঙ্গ করার এথিক্যাল যে বর্ডারলাইন থাকে, তা আপনাকেই নির্ধারণ করতে হবে।

আপনি বিচারব্যবস্থায় ভয় পাবেন, নাকি রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে নিজের ন্যারেটিভে দৃঢ় থাকবেন—সেটি আপনার ব্যাপার। কিন্তু আইনের আওয়ামী ব্যাখ্যা মেনে নিয়ে যদি দেশ উদ্ধারের স্বপ্ন দেখেন, তাহলে আপনার সাথে বাহাস করে লাভ নেই। আপনি কি বিশ্বাস করেন, সংবিধান ও আইনের চোখে শেখ হাসিনা বৈধ প্রধানমন্ত্রী? যদি উত্তর হয় ‘না’ (হতে বাধ্য), তাহলে আপনি হাসিনা সরকারের পতন দাবি করতে পারেন। আপনার দাবি হবে আইনসঙ্গত। এমনকি শেখ হাসিনাকে গদিছাড়া করতে আপনি বিদ্রোহেও সামিল হতে পারেন। এতে আইন ভঙ্গ হবে না।

হেমলক গলায় নিয়েই শেখ হাসিনার পতন নিশ্চিত করতে হবে।