প্রনবের মৃত্যুতে শোকে কাতর শেখহাসিনা!

99

বিশেষ প্রতিনিধি
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ মুরব্বী ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় সোমবার ৮৪ বছর বয়সে মৃত্যু বরণ করেছেন। গত মাসে দিল্লির আর্মি রিসার্চ অ্যানড রেফারেল হাসপাতালে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। গত কয়েকদিন ধরেই তিনি সংজ্ঞাহীন ছিলেন। তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। সোমবার সকালে তার অবস্থার আরও অবনতি ঘটে এবং তিনি সেপ্টিক শকে চলে যান। তার ছেলে অভিজিত মুখোপাধ্যায় এক টুইট করে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মারা যাওয়ার কথা নিশ্চিত করেন। শেখ হাসিনা গভীর শোক জানিয়ে বলেছেন যে তিনি আপনজন হারিয়েছেন।।

দীর্ঘদিনের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি ৭ বার ভারতীয় লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১২ সালে কংগ্রেস সরকার তাকে ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করে। তিনিই ভারতের প্রথম বাঙালি হিন্দু রাষ্ট্রপতি। এর আগে প্রণব মুখোপাধ্যায় ভারতের অর্থ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রি ছিলেন। ভারতের রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোভিন্দ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

এখানে উল্লেখ্য, বাংলাদেশের এক এগারোর সামরিক সরকারের সংগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমঝোতায় প্রণব মূল ভুমিকা পালন করেছিলেন। প্রণব মুখোপাধ্যায় তার রাজনৈতিক আত্মজীবনীমূলক বই, দি কোয়ালিশন ইয়ার্সে লিখেছেন যে ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে জেনারেল মইন ভারত সফরে গেলে তিনিই শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এলে মইনকে চাকরি বাঁচানোর নিশ্চয়তা দেন। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন যে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের কাছ থেকে চাকরির নিশ্চয়তা পেয়েই বাংলাদেশের তৎকালীন সেনা প্রধান শেখ হাসিনাকে ২০০৮ সালের নির্বাচনে ক্ষমতায় আনার জন্য ডিজিএফআইকে সর্বতোভাবে ব্যবহার করেন।
এরও আগে ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশে এক দলীয় বাকশাল সরকারের পতনের পর বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা কাদের সিদ্দিকি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আশ্রয়ে থেকেই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারত-সীমান্ত অঞ্চলে বেশ কিছুদিন সশস্ত্র বিদ্রোহ চালিয়েছিলেন। কাদের সিদ্দিকি এখনো তার লেখালেখিতে প্রণব মুখোপাধ্যায়কে পিতা বলে সম্বোধন করে থাকেন। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারতের পক্ষে প্রণব সর্বদাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে ২০১৩ সালে বাংলাদেশ সফরে এসে প্রণব মুখোপাধ্যায় শাহবাগিদের প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করেছিলেন।

সূত্র আমার দেশ