নেপাল পেরেছে; বাংলাদেশ কেন পারছে না? : ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা

262

 

১/ হেডলাইনটা ভারতকে নিয়ে আশা করি সচেতন পাঠকরা আগে থেকেই বুঝেছেন। ভারতের চাণক্য পলিসি সব প্রতিবেশীদের সাথেই বৈষম্যমূলক পলিসি অনুসরণ করে। তবে ‘শক্তের ভক্ত, নরমের জম’ আপ্তবচনটি ভারতের ক্ষেত্রে শতভাগ প্রযোজ্য। প্রতিবেশী চীন এবং পাকিস্তানের সাথে তাদের ‘ভক্ত’ পলিসি, আবার বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটানের সাথে তাদের ‘যম’ পলিসি।

২/ বাংলাদেশ এবং নেপাল উভয় দেশের সাথেই দাদাগিরি এবং নিগ্রহ মূলক আচরণ ভারত যুগ যুগ ধরে করে আসছে। সেই আচরণে অতিষ্ঠ নেপাল অনেক আগে থেকে সামগ্রিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে আসছে। এখন সেই সফলতা দৃশ্যমান করতে পেরেছে নেপাল। কিন্তু বাংলাদেশ জন্মের পর থেকে ভারতের অপ্রতিবেশীসুলভ বৈষম্যমূলক এবং পৈশাচিক আচরণের শিকার হলেও সামগ্রিকভাবে সে চেষ্টা কখনো করতে পারেনি। এদেশের রাজনীতিবিদ, পেশাজীবী এবং বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে ভারতীয় সমর্থক একটা গোষ্ঠী সবমসময়ে ছিল, এখনো আছে, যাদের কাছে বাংলাদেশের চেয়ে ভারতীয় স্বার্থ বড়। ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য এই দেশদ্রোহী গোষ্ঠী বড় বাঁধা। গত এক যুগ ধরে সংখ্যায় কম হলেও ঐ গোষ্ঠী জোরজবরদস্তি করে ক্ষমতাসীন থাকায় বাঁধাটা আরো কঠিনতর হয়েছে।

৩/ নেপাল, বাংলাদেশের চেয়ে একটা সুবিধাজনক অবস্থায় আছে ভারতের ‘যম’ চীনকে প্রতিবেশী হিসাবে পেয়ে। ইতিমধ্যে চীনের সাথে নেপালের রেল যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে। আরো কয়েকটি সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার কাজ চলছে। শক্তিশালী চীনকে প্রতিবেশী এবং বন্ধু হিসাবে পেয়ে নেপাল ‘দাদা’ ভারতের বিরুদ্ধে মানচিত্র পরিবর্তনের এবং সীমান্তে শক্ত অবস্থান নেওয়ার সাহস দেখাতে পেরেছে। সে-ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উপায়হীন হলেও প্রবল এবং সামগ্রিক জাতীয়তাবাদী অবস্থান থাকলে চীনের সাহায্য নিয়ে নেপালের মতো শক্ত অবস্থানে যাওয়া যেতো। কিন্তু সামগ্রিকভাবে সেই অবস্থানটা নেই, কিছুসংখ্যক ভারতীয় আশির্বাদপুষ্ট দালাল শ্রেণীর কারণে।

৪/ নেপালীরা দরিদ্র হলেও দেশপ্রেম এবং জাতীয়তাবাদী চেতনা প্রবল। সেই চেতনার কারণেই তারা ভারতের বিরুদ্ধে একাট্টা হতে পেরেছে। পেরেছে ভারতীয় চাকচিক্যময় স্যাটালাইট মিডিয়া এবং বলিউড দেখা হতে নিজেদেরকে বঞ্চিত রাখার সিদ্ধান্ত নিতে। কিন্তু এ-ক্ষেত্রে নেপালীদের চেয়ে অনেক পিছিয়ে আছে বাংলাদেশীরা। আমাদের কোনো স্যাটালাইট টিভি ভারতে অনুপ্রবেশ না পেলেও আমাদের প্রায় প্রতিটি ঘরকে ভারতীয়রা হিন্দি বিনোদনের ‘স্থায়ী গৃহ’ বানিয়ে ফেলেছে। এ-ক্ষেত্রে আওয়ামী-বিএনপিসহ প্রায় সব গোষ্ঠী একাট্টা। নেপালীদের জাতীয়তাবাদী চেতনা এবং দেশপ্রেমের তুলনায় আমরা এখনো অনেক পিছিয়ে। এখনো আমরা চিত্তের সামান্য আনন্দের জন্য দেশপ্রেমকে বিসর্জন দিয়েই যাচ্ছি।

৫/ যেদিন আমরা দেশের জন্য চিত্তের সুখ বিসর্জন দিতে পারবো, দেশপ্রেমের প্রশ্নে দলমত নির্বিশেষে সবাই একমত হতে পারবো- সেদিনই আমরা নেপালের মতো ভারতীয় আধিপত্যবাদ এবং সীমান্তে পাশবিকতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারবো; অন্যথায় নয়।