মিশরের প্রাচীন মন্দির ফিলাইয়ের ইতিহাস

55

প্রাচীন মিশরীয়দের অন্যতম দেবী ছিলো আইসিস। সে ছিলো মাতৃত্ব, যাদু এবং ঊর্বরতার দেবী। ফিলাই মন্দিরটি ওসাইরিসের স্ত্রী এবং হোরাসের মা দেবী আইসিসকে সম্মান জানাতে নির্মাণ করা হয়েছিলো।

মিশরে এই আইসিসের যতগুলো প্রাচীন মন্দির তার মধ্যে ফিলাই সব থেকে সুন্দর এবং সব থেকে ভালো অবস্থায় আছে। খ্রিস্টপূর্ব ৬৯০ সালের দিকে এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছিলো।

ফিলাইয়ের প্রাচীন মিশরীয় নাম পি-আলেক। ফিলাই নামটি দিয়েছিল গ্রিকরা। আরবিতে এটি ছিলো ‘জাজরত ফালাহ’ (ফিলেই দ্বীপ) বা ‘জাজারাত আল-বীরবা’ (মন্দির দ্বীপ)। আরবরা একে ‘বিলাক’ বলে অভিহিত করতো। ইসলামী যুগের সময় এটি স্থানীয় লোকদের কাছে ‘এল-ওসর ক্যাসেল’ বা ‘গিজিরিট আনাস এল-ওয়াগুড’ নামে পরিচিত ছিল।

ফিলাইকে প্রাচীন মিশরীয় রীতিতে নির্মিত প্রাচীন মন্দিরগুলির মধ্যে সর্বশেষ হিসাবে ধরা হয়। এটাকে মিশরীয় এবং নুবিয়ান উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সবচেয়ে পবিত্র মন্দির হিসাবে বিবেচনা করা হত।
টলোমাইক রাজবংশের সময়ে দেবী আইসিসের প্রধান ধর্মীয় কেন্দ্র হিসাবে ফিলাই সর্বাধিক পরিচিতি লাভ করে। টলেমি দ্বিতীয় ফিলাডেলফাস এই মন্দিরের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল এবং তাঁর উত্তরসূরি টলেমি তৃতীয় ইউয়েরজিটস মন্দিরের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে।

রোমান সম্রাট আড্রিয়ান এ মন্দির কমপ্লেক্সের পশ্চিমে একটি গেট যুক্ত করেছিলেন। রোমান আমলেও মন্দিরটির পুজা অর্চনা অব্যাহত ছিল এবং প্রথম জাস্টিনিয়ান-এর শাসন অবধি তা অব্যাহত ছিলো জাস্টিনিয়ান রাজত্বের শেষদিকে মন্দিরটিকে একটি গির্জায় রূপান্তরিত হয়েছিলো।

মন্দিরটি আসওয়ান দ্য নুবিয়ান সিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিস্তম্ভ। এটি আসওয়ান বাঁধের ১২ কিলোমিটার দক্ষিণে আগলিকা দ্বীপে অবস্থিত। এ দ্বীপটি একটি পাথুরে দ্বীপ যাকে ‘হাইরোগ্লিফিক অপো’ নামে ডাকা হয়।

১৯৬০ সালে আসওয়ান বাঁধ নির্মাণের সময় এই মন্দিরটি পানির নিচে প্রায় হারিয়ে গিয়েছিল। ভাগ্যক্রমে মিশরীয় সরকার এবং ইউনেস্কোর যৌথ আন্তর্জাতিক উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে মন্দিরটি উদ্ধার করা হয়েছিল। পুনরায় মন্দিরটি ১৯৮০ সালে খোলা হয়েছিল।