কারাগারে দাম্পত্য সাক্ষাৎ – ”Conjugal visit”

32

কারাগার হোক সংশোধনাগার, এই বিশ্বাস মন্ত্র থেকেই এই লেখনির প্রয়োজন অনুভব করা। কারাগারে “Conjugal visit” যার বাংলা অর্থ দাড়ায় “দাম্পত্য সাক্ষাৎ। দাম্পত্য সাক্ষাৎ বলতে আমরা কি বুঝি?

উত্তরে বলা যায়, কারা অন্তরীন থাকা অবস্থায় ভালো আচরণের কোন বন্দীর নিদিষ্ট দিন অন্তর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কারা কৃর্তপক্ষের অনুমতিক্রমে তাদের বৈধ স্ত্রী বা স্বামীর সংগে কোন নির্দিষ্ট কামরা বা কক্ষে একান্ত ব্যাক্তিগত ভাবে সাক্ষাৎ এর সুযোগ পেলে তাকে দাম্পত্য সাক্ষাৎ নামে অভিহিত করা হয়।
A conjugal visit is a scheduled period in which an inmate of a prison or jail is permitted to spend several hours or days in private with a visitor, usually their legal spouse. Inmates are permitted to engage in sexual relations with their spouse during conjugal visits.

মনোবিজ্ঞানী ও অপরাধ বিজ্ঞানীদের মতে আধুনিক রাস্ট্রের কারা ব্যবস্থাপনায় দাম্পত্য সাক্ষাৎ বন্দীর মনো-দৈহিক উন্নয়নে কার্যকর ভুমিকা রাখে। কারা মুক্তির পর একজন বন্দীর স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবনের ধারাবাহিকতা রক্ষার ক্ষেত্রেও এটি ইতিবাচক ভুমিকা পালন করে। শুধু তা-ই নয় এটি কারাভ্যন্তরে বন্দির দৈহিক ও মানসিক আচরণ কেও নিয়ন্ত্রণ করে। কারাভ্যন্তরে কারাগারের বিধি বিধান লংঘন যেমন, উচ্ছৃংখল আচরণ, সমকামিতা এর মতো অপরাধগুলোর মাত্রাও কমে যায়।

দাম্পত্য সাক্ষাৎ প্রচলনের ইতিহাস
১৯০০ সালে দক্ষিন আমেরিকার Mississippi state penitentiary প্রিজন ক্যাম্প নামক কারাগারে প্রথম দাম্পত্য সাক্ষাৎ এর প্রচলন ঘটে। মুলত এই প্রিজন্স ক্যাম্পএ কৃষি খামারে কঠিন পরিশ্রম ও কস্টসাধ্য কাজে নিযুক্ত কৃষনাংগো বন্দীদের শারীরিক ও মানসিক উদ্দিপনা প্রদানের জন্যই দাম্পত্য সাক্ষাতের প্রচলন ঘটে।

দাম্পত্য সাক্ষাৎ প্রচলিত যে সকল দেশে
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ০৬ টি প্রদেশে দাম্পত্য সাক্ষাৎ এর প্রচলন আছে। প্রদেশগুলো হলো:- ক্যালিফোর্নিয়া, মিসিসিপি, নিউম্ন্যাজিকা, নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটন। এছাড়া যেসব দেশের কারাগারে দাম্পত্য সাক্ষাৎ প্রচলিত আছে যে দেশগুলো হলো, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, ব্রাজিল, কানাডা, কোস্টারিকা, ইসরাইল, মেক্সিকো, ব্রিটেন ও রাশিয়া।

দাম্পত্য সাক্ষাতের ইতিবাচক দিক
দাম্পত্য সাক্ষাৎ প্রচলনে তারা বন্দীদের শুধু শারীরিক উৎকর্ষতা নয় বরং মানসিকভাবে তারা উন্নত চরিত্রের অধিকারী হয়ে ওঠে। এছাড়াও আরো যেসব ইতিবাচক দিক আছে তা হলো।

দুশ্চিন্তা ও মানসিক নিঃসঙ্গতা থেকে মুক্তি লাভ।
আত্মহত্যা প্রবণতা কমে আসা।
কারাগারে বিকৃত যৌনতা বা যৌন অপরাধ হ্রাস।
পারিবারিক বন্ধন অটুট থাকা।
কয়েদিদের কর্মস্পৃহা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি।
কারা অপরাধ হ্রাস।
কারামুক্তির পর স্বাভাবিক পারিবারিক সুস্থ জীবনে ফিরে যাওয়া।
বন্দীদের চারিত্রিক সংশোধন ও সামাজিক পুনর্বাসন দাম্পত্য সাক্ষাতের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয় নিয়মাবলী

দাম্পত্য সাক্ষাৎ অবশ্যই শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিষয়ক অগ্রাধিকার দিয়ে পরিচালিত হতে হবে। এক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো লক্ষ্য করা বাঞ্ছনীয়।

ভালো আচরণের অধিকারী কারাবন্দিরা দাম্পত্য সাক্ষাতের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার প্রাপ্ত হবেন।
ভালো আচরণের কারাবন্দীদের আবেদন সাপেক্ষে দুধর্ষ যৌন অপরাধের আটক বন্দী মাদক বহনকারী বন্দী রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের অভিযোগ ব্যতীত কারা কর্তৃপক্ষ সাক্ষাতের অনুমতি প্রদান করবেন।

উন্নত রাষ্ট্রে তিনটি সময় ব্যাপ্তিতে দাম্পত্য সাক্ষাতের আবেদন গ্রহণ করা হয় 4 ঘন্টা 6 ঘন্টা বিশেষ বিবেচনায় 12 ঘন্টা সাক্ষাৎ করবে ও পরবর্তী সময়ে কারাবন্দি ও সাক্ষাৎপ্রার্থী যথাযথ তল্লাশি কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে।

দাম্পত্য সাক্ষাতের ক্ষেত্রে কারাবন্দীকে 6 মাস কারা অপরাধমুক্ত থাকতে হবে।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অন্তরঙ্গ সাক্ষাৎ বিবেচনা করা যেতে পারে এক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে কিছুক্ষণ বসে আড্ডা মনের অনুভূতি প্রকাশ করবে ফলে তাদের মানসিক যন্ত্রণা ও দুঃখের অবসান ঘটবে। বিষয়টি Feel the prison এর বিপরীত বিষয় feel the family হতে পারে।

কানাডায় এসকল ব্যবস্থার প্রচলন রয়েছে যাকে প্রাইভেট ফ্যামিলি ভিজিট নামে অভিহিত করা হয়।

কারাগারের দাম্পত্য সাক্ষাৎ ইংরেজিতে যাকে আমরা conjugal visit বলে জানি বিষয়টি সংবেদনশিল স্পর্শ কাতর। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এর নেতিবাচক দিকগুলো বিবেচনা করে বন্দী সংশোধনের জন্য দাম্পত্য সাক্ষাৎ বিষয়টি বিবেচনা যোগ্য। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের পাঞ্জাবে এর প্রচলন রয়েছে। এ প্রসঙ্গে ২০১৫ এ পাঞ্জাব ও হারিয়ানা কোর্টের রায় উল্লেখযোগ্য।

তথ্য কৃতজ্ঞতা:-
(1) Hopper, Columbus B ( September 1962) The conjugal visit at Mississippi state penitentiary.

(2) The journal of criminal law, criminology and police science, North western University 53(3) 340-343.