ভোট জালিয়াতির কারণে সাহেদ সাবরিনাদের উত্থান’-বিএনপি

30

 

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ভোট ছাড়া রাতের অন্ধকারের সরকার ক্ষমতায় আছে বলেই সাহেদ-সাবরিনাদের উত্থান হয়েছে। আপনি দিনের ভোট রাতে নেবেন তাহলে সমাজে সাহেদ-সাবরিনার উত্থান হবে না? ভোট কেন্দ্রে ভোটার নেই, নির্বাচন কমিশন বলে দিল সুষ্ঠু ভোট হয়েছে এবং ৪০%, ৪৫%, ৫০%, ৬০%, ৭০% ভোট কাস্ট হয়েছে। অথচ ভোট কেন্দ্রে ভোটার নেই, চতুষ্পদ জন্তু ঘুরে বেড়াচ্ছে। সংবাদপত্র চাপের মধ্যেও, হুমকির মধ্যেও এগুলো প্রকাশ করেছে, এমনকি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোও এগুলো প্রকাশ করেছে। তাহলে এই সমাজে সাহেদদের উত্থান হবে না কেন? যারা ভোট নিয়ে জালিয়াতি করে তারা মানুষের অসুস্থতা নিয়ে জালিয়াতি করবে না কেন?

সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী মৎসজীবী দল আয়োজিত মানববন্ধনে এসব কথা বলেন। ‘করোনাকালীন বাজেটে মৎসজীবী খাতকে উপেক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে সীমাহীন দুর্নীতি লুটপাট অনিয়ম ও অব্যস্থাপনা’র অভিযোগ এনে তার প্রতিবাদে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী বলেন, ‘ডানে বামে যা ঘটছে তার প্রতিবাদ না করলে রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা জনগণের প্রতি যে দায়িত্ব, সে দায়িত্ব আমরা পালন করছি না। একটি সরকার জনগণের সমর্থন ছাড়া ক্ষমতায় থাকলে এ রকম সাহেদদের উত্থান হবে, সাবরিনার উত্থান হবে, সম্রাটের উত্থান হবে। আজকে এই জায়গাগুলোতে বেশি করে আলোচনা করতে হবে, কথা বলতে হবে। যেই সরকারের মূলেই আছে অবৈধতা সেই সরকারের হাতে সমাজের কোথাও ভালো কিছু হবে এই দৃষ্টান্ত বাংলাদেশে তো নেই, এমনকি পৃথিবীর কোথাও নেই।

তিনি আরও বলেন, ‘আজকে করোনা পরীক্ষা করার মানুষের সংখ্যা কমে গেছে কেন? আমরা তো হাতে গোনা দুই একটা হাসপাতালের কথা জানি, কিন্তু এরকম আরও যে কত হাসপাতালে মানুষের জীবন নিয়ে অনাচার চলছে তার কোনো ইয়ত্তা নেই। করোনা আক্রান্ত মানুষের যদি নেগেটিভ সার্টিফিকেট দেওয়া হয়, আর যার করোনা হয়নি তাকে যদি পজিটিভ সার্টিফিকেট দেওয়া হয় তাহলে এই দেশ কিসের উপর চলছে আপনারা নিজেই বলুন। আজ নানাভাবে আতঙ্কিত মানুষ, তার ওপরে হাসপাতালে ভুয়া সার্টিফিকেট পায় যদি অসুস্থরা, এরপরে কি মানুষ যাবে হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার জন্য? মানুষ যাবে না। মানুষ যাবে না এইজন্যই যে, মানুষ আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে আছে।

রিজভী বলেন, ‘আমার দেশের সীমানায় ঢুকে যদি অন্য দেশ মাছ ধরে নিয়ে যায় তাহলে আমার দেশের সার্বভৌমত্ব কোথায়? আমার মাছ আমি খেতে পারবো না, অন্য দেশ এসে ধরে নিয়ে যাবে। আর সমাজের মধ্যে চোর, বাটপার এদের উত্থান হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটাতে হলে অবশ্যই গণতন্ত্রের পুনরুজ্জীবন ঘটতে হবে, অশ্যই সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে আবারও রাজপথ উত্তাল করতে হবে। তাছাড়া কোনো নিরাপত্তা থাকবে না, কারও জীবনের কোনো নিরাপত্তা থাকবে না।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম মাহাতাবের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে সংগঠনের সদস্য সচিব আব্দুর রহিম এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইসমাইল হোসেন সিরাজীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।