ক্ষমতার উৎস জনগণ আর নেই : ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা

74

প্রায় এক যুগ ধরেই গণতান্ত্রিক থেকে ফ্যাসিষ্টে রুপান্তরিত বর্তমান সরকার জনগণকে আর ক্ষমতার উৎস ভাবতে চাচ্ছে না। তাদের ক্ষমতার উৎস হয়ে গেছে দেশীয় বিভিন্ন বাহিনী এবং ভারত। করোনা মহামারীতেও তাদের চিন্তাজগতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে ভারতকে যেভাবে সরকারদলীয় মূখপাত্র ও নীতিনির্ধারকরা ডিপেন্ড করতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন, তাতে মনে হয় সরকার ভারতবান্ধব নীতি থেকেও সরে এসে আরো এক ধাপ নীচে ভারত তোষণ নীতিতে নেমে গেছে। তাই তো সীমান্তে বিএসএফের ‘ট্রিগার হ্যাপি’ পলিসির শিকার অসহায় জনগণের লাশ প্রতিনিয়ত হাসি মুখে গ্রহণ করেই যাচ্ছে আমাদের বিজিবি। অথচ এর চেয়ে তুচ্ছ কারণে ছোট গরীব দেশ নেপালও ভারতের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। তাই বারবার মনে হয়, সরকার জাতিকে নতুন নতুন বিতর্কে জড়িয়ে বিভক্ত করতে চায়। সেটি দেশ-জাতির স্বার্থে নয়, তাদের ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করার স্বার্থেই। অনেক ইস্যুতে অনেক বক্তব্যই প্রতিদিন ফ্যাসিষ্ট প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন এবং এখনো দিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু একবারও তিনি জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানাননি; এমনকি বর্তমান মহামারীর সময়েও নয়। তার প্রতিটি বক্তব্যে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল এবং অসহ্য মনে করার শব্দমালা প্রতিধ্বনিত হয়। স্মরণ রাখা ভালো, দেশ পরিচালনায় সংবিধানের ধরন- ধারণ কোনো কাজ দেয় না, একটি সুন্দর সংবিধান বিদ্রোহ- অভ্যুত্থান ঠেকাতে পারে না। সব অশুভ শক্তি ঠেকায় জাতীয় ঐক্যের আওতায় জনগণের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ও আপোসহীন ভূমিকা। যে কোনো দেশপ্রেমিক সরকারের ইচ্ছা বা টার্গেট থাকে জাতীয় ঐক্য এবং বেশীরভাগ জনগণের সমর্থন লাভ করা, কিন্তু বর্তমান ফ্যাসিষ্ট সরকার যেভাবে ছায়াশত্রুর বিরুদ্ধেও যুদ্ধ করতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে, তাতে জনগণকে নিয়ে ভাবার সময়ও যেন পাচ্ছে না। অথচ জনগণই শেষ ভরসা ও আশ্রয়স্থল।