‘I will make politics difficult…’ ব্যারিস্টার আবু সায়েম

319

এমপি মানে মেম্বার অব্ পার্লামেন্ট। সংবিধানের ভাষায়, আইনপ্রণেতা। এক সময় তুখোড়-মেধাবী-অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, প্রথিতযশা আইনজীবি, দক্ষ আমলা, উচ্চডিগ্রীধারী শিক্ষক, সমাজের গুণীজন তথা নামিদামী মানুষেরা পার্লামেন্টে যেতেন। আমরাও তাদের সম্মান করতাম, ভালোবাসতাম। আমাদের ভাগ্য পরিবর্তন-নিয়ন্ত্রণের ভার তাদের হাতে ছেড়ে দিয়ে আমরা নিশ্চিন্ত থাকতাম।

 

টনি রাসেলের লেখা Commons People: MPs are Human Too বইটি প্রকাশিত হয় ২০১৩ সালে। টনি নিজে একজন Mental Health Campaigner। দাতব্য কাজের পেছনে জীবন অতিবাহিত করছেন কোমল হৃদয়ের এ মানুষটি। তার বইয়ের রয়্যালটিও পায় নিজস্ব চ্যারিটি প্রতিষ্ঠান Reflections Arts in Health। কর্মসূত্রেই টনির সাথে বহুসংখ্যক ওয়েস্টমিন্সটারিয়ানের দেখা হয়। এমপিদের জীবনের নানাদিক তুলে ধরার প্রয়াসে বিভিন্ন বিষয়ে অন্তত ৪০ জন এমপির বক্তব্য নেন টনি রাসেল।

 

Commons People বইয়ের সূচনায় টনি রাসেল লিখেছেন, “In writing this book I am hoping that I can, in my own small way, create a better understanding of the people that make the decisions that affect all our lives, and maybe even encourage the great British public to take a much greater interest in the work of our elected representatives.” [এ বইটি লেখার মাধ্যমে আমি আশা করছি, আমার ক্ষুদ্র সামর্থ্যে, যে মানুষগুলোর সিদ্ধান্ত আমাদের সবার জীবনকে প্রভাবিত করে তাদের সম্পর্কে অধিকতর উপলব্ধি তৈরি এবং এমনকি হয়তো মহান ব্রিটিশ জনগণকে আমাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কর্মকাণ্ডে আরও আগ্রহী হওয়ার জন্যে উৎসাহিত করতে পারবো।]

 

এর সাথে তিনি যোগ করেন, Commons People takes a look at the day to day lives of our MPs, examining what motivates them, who inspires them, what they do to relax, what keeps them awake at night, and their hopes and aspirations for the future.” [কমন্স পিপল আমাদের এমপিদের নিত্যকার জীবনে দৃষ্টি ফেলে জানতে চায়, তাদের কাজের অনুপ্রেরণা কী, কে তাদের উৎসাহ জোগায়, কী করে হালকা হন তারা, কোন্ পরিস্থিতিতে তাদের নির্ঘুম রাত কাটে, এবং কী তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা।]

 

Commons People বইটিতে এমপিদের কাছে একটি প্রশ্ন ছিলো, “What would you like to be remembered for?” বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে তাদের অভিব্যক্তি প্রকাশ করলেও একটি জায়গায় সবার সুরই মোটামুটি এক- সব এমপিই জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সততার সাথে কাজ করে এবং ইতিবাচক পরিবর্তন এনে স্মরণীয় হয়ে থাকতে চান। একটি উদাহরণ দিলে হয়তো পাঠকের তৃপ্তি মিলবে। Luciana Berger MP: “Making a difference, making contributions. It’s cheesy but that’s why we are in politics – to make the world a better place.” [পরিবর্তন এনে, অবদান রেখে। শুনতে চিজি শোনায়, কিন্তু আমাদের রাজনীতিতো সে উদ্দেশ্যেই – পৃথিবীটাকে আরও ভালো জায়গায় পরিণত করা।]

 

সময় বদলেছে। বাংলাদেশে পাড়ার মাস্তান, ছিঁচকে চোর, পিস্তলধারী গুণ্ডা, অক্ষরজ্ঞানহীন নির্বোধ, বেশ্যার খদ্দের, ইয়াবা ব্যবসায়ী, বাজারের নর্তকীরা এখন সংসদে বসে। এমনকি কথা বলার আগে গায়ের দিকে তেড়ে আসা বখাটেদেরকেও দেখছি এমপি হওয়ার লাইনে আছে। পত্রিকায় খবর ছেপেছে, মানবপাচারের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকার কারবারের অভিযোগে কুয়েতে বাংলাদেশের এক ‘এমপি’ গ্রেপ্তার [https://www.jugantor.com/national/313447/; https://www.thedailystar.net/bangla/154985]। লজ্জার মাথা খাওয়ার দিনও শেষ। এজাতীয় ‘এমপি’দের মেনে নিতে আমরাও এখন আর কুন্ঠিত হই না। কী রাষ্ট্র, কী রাজনীতি! কী আমাদের বিবেক!

 

আবারও শহীদ জিয়ার কাছেই ফিরে আসতে হয়। ধ্রুপদী রাজনীতির অনন্য কারিগর মহান এ রাষ্ট্রনায়ক নি:সংকোচে বলেছিলেন, “I will make politics difficult for the politicians.” আহারে, আজ যদি জিয়া বেঁচে থাকতেন! তথাকথিত এ এমপির দল তাহলে মানিক মিয়া এভিন্যুর ফুটপাতে বসে জুতা পালিশ করতো।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ব্যারিস্টার আবু সায়েমের ফেসবুকথেকে নেয়া