বহুরূপী মানুষ : ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা

272

 

সব মানুষই এক আদমের সন্তান। তারপরও জাত-পাত বিভেদ, বৈষম্য মানুষেরই সৃষ্টি। আল্লাহ মানুষ সৃষ্টি করার সময় কিছু মৌলিক বিষয়ে সাদৃশ্য রেখেও মানুষে মানুষে পার্থক্য করেছেন।

সে পার্থক্যটি শুধু ভাষা, বর্ণ, লিঙ্গ, আকার- আয়তন এবং চেহারার পার্থক্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সে পার্থক্যটি স্বভাব প্রকৃতি এবং প্রকাশিত আচরণেও ধরা পড়ে। শৈশবে একবার বাজারে গিয়ে থ হয়ে গিয়েছিলাম। এত মানুষ অথচ কারো সঙ্গে কারো মিল নেই। কথা বলার ধরণ, চেহারার আকার-আকৃতি সম্পূর্ণ আলাদা।

পরে পবিত্র কোরানে একটি আয়াত পড়ে আমার বিভ্রান্তি দূর হয়েছে। আয়াতটির সার কথা, আল্লাহ মানুষকে একই জুটি হযরত আদম-হাওয়া থেকে সৃষ্টি করেছেন, আর আদম-হাওয়া মাটির সৃষ্টি। বর্ণ, গোত্র, ভাষা এবং আকার- আকৃতির পার্থক্য তিনি ইচ্ছা করেই করেছেন এবং তা করেছেন তাঁর সৃষ্টির বর্ণাঢ্য রূপময়তার জন্য। যেন মানুষ পরস্পরকে চিনতে পারে, জানতে পারে। এমন বক্তব্য ওল্ড ও নিউ টেস্টামেন্টেও আছে। সেই তখন থেকেই মানুষ চেনার চেষ্টা করে আসছি। এটা মনে হয় অসাধ্য একটা কাজ।

আল্লাহ ছাড়া মানুষকে ‘চিনেছি’ এ কথা বলা সহজ নয়। কেন সহজ নয়, সে প্রশ্নের জবাব অত্যন্ত কঠিন। পরবর্তী জীবনে ইতিহাসচর্চা করতে গিয়ে বুঝেছি, মানোত্তীর্ণ অল্প কিছু খোদাভিরু মানুষ ছাড়া সবারই একাধিক রূপ বা চেহারা আছে। রাজনীতির মাঠে বর্ণচোরা স্বভাবের লোক বেশী। সমাজের সব স্তরে শত শত মানুষ বহুরূপী সেজে সাধারণ মানুষের কাছে দেবতা হতে চায় অথচ শেকড় ধরে টান দিলে অনেকেরই ভেতরের আরেকটা রূপ বেরিয়ে আসে। তা আরো রহস্যময় কিংবা ঘুটঘুটে অন্ধকার।