করেনাকালে প্রবাসীরা-পুরষ্কারের পরিবর্তে তিরষ্কার : ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা

111

১/ করেনাকালেও প্রবাসীরা গত ১৫’দিনে ৮০০’মিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছে। এতে তাদের আত্মীয়স্বজন এবং দেশের সরকারও খুউব সন্তুষ্ট। এই রেমিটেন্সের কারণে এবং আমদানি কম হওয়ায় করোনাকালেও দেশের রিজার্ভ এখন ৩২’বিলিয়ন ডলার। যা নিঃসন্দেহে সন্তোষজনক।

২/ প্রবাসীর সংখ্যা এখন প্রায় দেড় কোটি। এর মধ্যে ৭৫% ভাগই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে। করোনা মহামারী শুরু থেকে প্রায় সবদেশে যখন লকডাউন শুরু হলো তখন অন্তত এক তৃতীয়াংশ প্রবাসীরা কাজকর্ম হারিয়ে আর্থিক দূরবস্থার শিকার হয়েছে। শ্রীলংকা, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইনসহ অনেক দেশের সরকার তাদের প্রবাসীদের আর্থিক সাহায্যার্থে এগিয়ে এসেছিল। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার এ ব্যাপারে কোন উদ্যোগ নেয়নি, নেয়নি কোনো প্রণোদনার উদ্যোগ। সমালোচনায় পড়ে পরবর্তী সময়ে কিছু উদ্যোগ নিয়েছে, যা নিতান্তই অপ্রতুল। এমনকি করোনাকালে দেশে ফেরার সময়েও সরকারের যথাযথ স্বাস্থ্যগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করার কারণে বিমানবন্দরে প্রবাসীরা বিরূপ ব্যবহারের শিকার হয়েছে। অথচ সরকারের ঝাড়িঝুড়ি, ফুটানি সবকিছু এই প্রবাসীর কারণে। বছরে ১৫-১৭ বিলিয়ন রেমিটেন্স পাঠায় প্রবাসীরা। এই রেমিটেন্স যোদ্ধাদের বিরাট অংশই কাজ হারিয়ে এক বিপর্যয়কর মানবেতর জীবনযাপন করে আসছে করোনাকালে। অনেকে বাসা ভাড়া দিতে পারছে না, এমনকি প্রথমদিকে অনেকের খাবার কেনার টাকাও ছিল না। দেশের জন্য অনবরত রেমিটেন্স পাঠিয়ে আসা, রিজার্ভ বজায় রাখা এই দেশপ্রেমিক রেমিটেন্স যোদ্ধাদের জন্য কি সরকারের কোনো দায়দায়িত্ব ছিল না? কি পেয়েছে প্রবাসীরা সরকারের কাছ থেকে এই মহামারীতে? ১’লক্ষ টাকার সরকারী প্রণোদনায় প্রবাসীদের জন্য ছিটেফোঁটাও ছিল না।

৩/ মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপকভাবে শ্রমিক যাওয়ার ব্যবস্থা করেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। সৌদিআরবসহ সকল মধ্যপ্রাচ্যের দেশের সাথে প্রেসিডেন্ট জিয়ার সুসম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে তিনি তা করতে পেরেছিলেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাঁর তৃতীয় শাসনামলে প্রবাসীদের স্বার্থের কথা চিন্তা করে ২০০১’সালের ২০’ডিসেম্বর প্রবাসী মন্ত্রণালয় গঠন করেন।

৪/ প্রবাসীদের দুঃখদূর্দশা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো সরকার যে আমাদের দেশে নেই তা আমরা অনেকদিন ধরেই দেখে আসছি। এই সরকার কেবল ধনীদের, তাদের ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে যাদের দরকার তাদের। কারণ, জনগণের ভোটে তো তারা ক্ষমতায় আসেনি, এসেছে নির্ভরশীল তোষামোদকারী এবং বৃহৎ প্রতিবেশী দেশের বদান্যতায়, মেকানিজমে। তাই প্রবাসীসহ আমজনতার জন্য এদের কোনো দায় নেই। সুতরাং সকল মানুষকে করোনাভাইরাস হতে নিজের চেষ্টাই নিরাপদ থাকা ছাড়া আর কোনো উপায়ই নেই। প্রবাসীসহ সবাইকে বর্তমান ফ্যাসিষ্ট সরকারের শোষণ হতে মুক্তির অব্যাহত চেষ্টা চালিয়ে যেতেই হবে। সেই সাথে মহান আল্লাহর কাছেও সাহায্য চাইতে হবে করোনাভাইরাস এবং ফ্যাসিষ্টদের হাত হতে পরিত্রাণের।