ইউপি মেম্বার সহ ছয়জন মিলে গৃহবধুকে ধর্ষণ!

66

ভুক্তভোগীর স্বামী বলেন, আমি জেলে থাকা অবস্থায় আমাকে ছাড়িয়ে আনতে সব রকমের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়ে ভোলা মেম্বার কৌশলে আমার স্ত্রীকে ধর্ষণ করে। মেম্বারের ঘটনাটিকে পুঁজি করে তার আরো ৫ সহযোগী আমার স্ত্রীকে ধর্ষণ করলে সে গর্ভবতী হয়ে পরে। আমি জেল থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়ি এসে আমার স্ত্রীর কাছ থেকে এসব ঘটনা জানতে পারি।

কুমিল্লার মুরাদনগরে দলবেঁধে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে আটক ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম ওরফে ভোলা মিয়াকে (৪২) মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। সে মুরাদনগর সদর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য ও ডুমুরিয়া গ্রামের মৃত জায়েদ প্রধানের ছেলে। এ ঘটনায় ওই ইউপি সদস্যসহ ৬ ধর্ষকের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূর স্বামী ২০১৯ সালের ১৪ নভেম্বর একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যায়। স্বামীকে ছাড়িয়ে আনতে স্থানীয় মেম্বার নজরুল ইসলাম ওরফে ভোলা মিয়ার সাথে যোগাযোগ করে ওই গৃহবধূ। মেম্বার সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়ে তাকে কৌশলে ধর্ষণ করে। এ ঘটনা কাউকে জানালে তার বড় ধরণের ক্ষতি হবে এমন হুমকিতে গৃহবধূ বিষয়টি চাপা রাখে।

কয়েকদিন পর ঘটনাটি জড়িয়ে মেম্বারের আরো ৫ সহযোগী তাকে টেপে ফেলে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূ গর্ভবতী হয়ে পড়লে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। স্থানীয়রা বিভিন্ন ভাবে তার কাছ থেকে বিষয়টি জানতে চাইলে সে ধর্ষকদের ভয়ে নাম প্রকাশ করেনি। সাড়ে ৩ মাস পর জেল থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়ি আসলে স্বামীর নিকট সবকিছু খুলে বলে ঘটনার শিকার ওই গৃহবধূ।

 

এ বিষয়ে মেম্বারের সাথে কথা বললে বিষয়টি তিনি ধামাচাপা দিতে বলেন, অন্যথায় আমাদেরকে গ্রামছাড়া করবেন বলে হুমকি দেয়। গত দু’মাস যাবত বিভিন্ন মহল বিষয়টি সমাধান করার আশ্বাস দিয়ে আমাকে চাপে রাখে। অবশেষে গ্রামবাসীর মধ্যে জানাজানি হয়ে গেলে নিরুপায় হয়ে জীবনের পরোয়া না করে এ নারকীয় ঘটনার সঠিক বিচারের জন্য আইনের আশ্রয় নিয়েছি। পুলিশ রবিবার সন্ধ্যায় নাগেরকান্দি চৌরাস্তা থেকে ওই মেম্বারকে গ্রেপ্তার করেছে।

মুরাদনগর থানার ওসি একেএম মনজুর আলম বলেন, এ ঘটনায় ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মেম্বার নজরুল ইসলাম ওরফে ভোলা মিয়াকে গ্রেপ্তারপূর্বক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করেছি। উক্ত ঘটনায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মেয়েটি ৫ মাসে গর্ভবতী।