কি আছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কপালে!

59

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাকি আর মাত্র ৫ মাস। আগামী অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে কি হবে না তা নিয়ে এখনও রয়েছে ঘোর সংশয়। চারপাশ থেকেই দাবি উঠছে বিশ্বকাপটা পিছিয়ে দেয়ার জন্য। কিন্তু আইসিসি এখনও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।

করোনাভাইরাসের মহামারি শুরুর পর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যতবারই আইসিসি বৈঠক হয়েছে, সবগুলোতেই ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই তবে সিদ্ধান্ত নেবে। আপাতত সময় যেভাবে চলছে, চলতে থাকুক।

তবুও শঙ্কা কাটছে না। চারদিক থেকে আইসিসির ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছে। এমতাবস্থায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভাগ্য নির্ধারণে ভাবতে বাধ্য হচ্ছে আইসিসি। আজই তারা টেলি কনফারেন্সে বৈঠক করবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) সাথে। একটাই এজেন্ডা, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সম্ভাবনা নিয়ে আলাপ করা।

সর্বশেষ সিএ বলেছিল, তারা আইসিসির ২৩ এপ্রিল প্রধান নির্বাহীদের যে বৈঠক হয়েছিল, সেটাকেই অনুসরণ করছে। ২৩ এপ্রিল আইসিসির সদস্যদেশগুলোর প্রতিটি প্রধান নির্বাহীদের বৈঠকে আলোচনা করা হয়েছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ব্যাপারে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘তারা এ নিয়ে খুব নিবিড়ভাবে কাজ করছে। একই সঙ্গে তারা কাজ করছে বিশ্বকাপের স্থানীয় আয়োজক কমিটি অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে। শুধু তাই নয়, অস্ট্রেলিয়া সরকারও এর সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। কারণ, সরকারই যুগপযোগি একটা পরামর্শ দিতে পারবে, আসলে এই মুহ‚র্তে কি করা দরকার কিংবা আদৌ বিশ্বকাপ আয়োজন সম্ভব কি না। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী কেভিন রবার্টস ২৩ এপ্রিল আইসিসিকে বলেছিল, ‘ইভেন্টটি (বিশ্বকাপ) আয়োজনে সম্ভাব্য সব বিকল্প নিয়েই আমরা এগুচ্ছি। আমরা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তিই নেবো।’

আজ যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে আইসিসির সঙ্গে, সেখানেও একই মনোভাব প্রকাশ করবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। কারণ, টুর্নামেন্ট নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে তাদের সামনে এখনও বেশ কিছু সময় রয়েছে। বৈঠকে কি হবে, সে ধারণা দিয়ে আইসিসি এবং সিএ’র সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্ট থেকে টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানানো হয়েছে, ‘একটি বিবৃতিছাড়া আর কিছুই এ সময় আশা করা যায় না।

আইসিসির নির্ধারিত বোর্ড মিটিং অনুষ্ঠিত হবে খুব শিগগিরই। সেখানে সম্ভবত আইসিসির নতুন কোনো চেয়ারম্যান আসতে পারে। কোনো সিদ্ধান্ত হয়তো এরপরই আসতে পারে।’
রিপোর্টের আসরটি নিয়ে তিনটি চিত্র দাঁড়াতে পারে বলে জানানো হয়েছে। প্রথমত, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনে রাজি হতে পারে, অন্য বোর্ডগুলোর অনুমতি স্বাপেক্ষে। সে ক্ষেত্রে টুর্নামেন্টটি হবে কম ভেন্যু এবং দর্শকশ‚ন্য স্টেডিয়ামে। দ্বিতীয়ত, টুর্নামেন্টটি এক বছর পিছিয়ে দেয়া হতে পারে। ২০২১ সালের ঠিক একই সময়ে আয়োজনের সিদ্ধান্ত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে পরের বছরই ভারতে হবে আরেকটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তৃতীয়ত, কিংবা অস্ট্রেলিয়া স্থগিত হওয়া টুর্নামেন্টটিই আয়োজন করতে পারে ২০২২ সালে। তবে এখনও পর্যন্ত এফটিপি (ফিউচার ট্যুরে প্রোগ্রাম) বলছে, ২০২২ সালে আইসিসির কোনো টুর্নামেন্ট সিডিউল নেই।

 

তবে আশার খবর হচ্ছে, সতর্কতা মেনে এ মাসের শেষে অস্ট্রেলিয়া দলের প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি শুরু করে দিতে চলেছে সিএ। সিডনি মর্নিং হেরাল্ডের প্রতেবদন অনুযায়ী, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ড: জন অর্চার্ড এবং স্পোর্টস সায়েন্স ও স্পোর্টস মেডিসিনের প্রধান অ্যালেক্স কুন্টুরিসের পর্যবেক্ষণ মতোই অনুশীলন সূচি সাজাচ্ছে সিএ। আর এই দুজন অন্য ক্রিকেট খেলুড়ে দেশের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রেখে কাজ করছেন, অস্ট্রেলীয় সরকারের বিভিন্ন কমিটিতে আছেন, আবার আইসিসির সঙ্গে মিলেও ক্রিকেট মাঠে ফেরানোর উপায় খুঁজছেন। সিএ এখন অগ্রাধিকার দিচ্ছে খেলোয়াড়দের প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতির স্বাস্থ্যবিধির ওপর। এগুলোর অন্যতম, অনুশীলনে বল চকচকে করার জন্য থুতু কিংবা ঘাম ব্যবহার করতে না দেওয়া। যেহেতু কোভিড-১৯ উত্তর বিশ্বে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি সমাজে বাধ্যতামূলক হয়ে উঠতে যাচ্ছে, সেজন্য ক্রিকেট মাঠে উদযাপনেরও অন্য ধরন খুঁজতে হবে। কুন্টুরিস জানেন, অনেক বিষয়ই আছে যা রাতারাতি বদলে ফেলা কঠিন, তবে নতুন কিছুর চর্চা শুরু হলে মানুষ আস্তে আস্তে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে।